/**
* Note: This file may contain artifacts of previous malicious infection.
* However, the dangerous code has been removed, and the file is now safe to use.
*/
The post পরেশনাথ মন্দিরের অজানা ইতিহাস appeared first on Art Criticism.
]]>
ছবি : পরেশনাথ মন্দির {বর্তমান অবস্থা}
পরেশনাথ মন্দিরের ইতিহাস সম্বন্ধে তেমন কোনো নথি কিংবা প্রামান্য দলিল পাওয়া যায় না। তাই এর প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানের জন্য রংপুর ও মাহিগঞ্জ এর ইতিহাসকে পর্যালোচনা করে ধারণাগতভাবে সমন্বয় করা হয়েছে।
পরেশ নাথ মন্দির সর্ম্পকে জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে রংপুর এর ইতিহাস। আজকের রংপুর এবং আগের রংপুর এর মধ্যে অনেক পার্থক্য। রংপুর সিটি তৈরি হওয়ার আগে রংপুরের মূল কেন্দ্র ছিল মাহিগঞ্জ যা আদিরংপুর নামে পরিচিত। মাহিগঞ্জ নামটি এসেছে “মাহি”= মাছ এবং “গঞ্জ”=নগর থেকে। অর্থাৎ, এই জায়গার সাথে মাছের বাজারের সম্পর্ক আছে। মাছ আছে কিন্তু নদী থাকবে না তা হয় না। পৃথিবীর সব নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছে নদী কে কেন্দ্র করে সেই সুত্র ধরে এগিয়ে পাওয়া যায় যে, মাহিগঞ্জ গড়ে উঠেছে ইছামতি নদীর তীরে। “ইছামতি” নদীর সাথে সবাই পরিচিত হলেও এটি পদ্মা নদীর উপনদী নয়, এটি রংপুর অঞ্চলের ইছামতি নদী যা তিস্তা নদীর শাখা নদী। এই ইছামতি নদীর বর্তমান অবস্থা দেখতে গিয়ে নালা ছাড়া কিছু পাওয়া যায় নি।
যে নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল আদি রংপুর-সেই ইছামতির নামও ভুলতে বসেছে এখানকার মানুষ। এমনি করে পানির অভাবে নাব্যতা হারিয়ে রংপুর অঞ্চলের নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। সীমান্তবর্তী দেশ ভারত উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অর্ধশতাব্দি আগেও এসব নদীতে ছিল উত্তাল যৌবনে পানির প্রবাহ ও প্রাণের স্পন্দন। এখন সেই যৌবনে ভাটা পড়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে নদীর অস্তিত্ব। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ইছামতি নদীর তীরে আদি রংপুর মাহিগঞ্জ গড়ে উঠলেও রংপুরের মানুষ ভুলতে বসেছে সে নদীর নাম। অথচ এই ইছামতির পাশে গড়ে উঠেছিল রংপুর এর বৃহত্তম বন্দর (তথ্য : কালের কন্ঠ)।

ছবি : ইছামতি নদী ,মাহিগঞ্জ, রংপুর
নদী ও বন্দর এর সাথে হওয়ায় মাহিগঞ্জই ছিলো প্রাচীন রংপুরের কেন্দ্র। সমৃদ্ধ এই অঞ্চল প্রাচীন কাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার জন্য দেশ বিদেশ থেকে আসত অনেকর। সব দিক দিয়ে মাহিগঞ্জ সুবিধাজনক হওয়ায় এখানে গড়ে উঠে রংপুর তাজ হাট রাজবাড়ী ,ডিমলা রাজবাড়ী, মাহিগঞ্জ বাজার ,রংপুর পাব্লিক লাইবেরিসহ ইত্যাদি স্থাপনা । ১৮ শতকে বাংলার ক্ষমতা ব্রিটিশ কোম্পানি পেলে মাহিগঞ্জ হয়ে উঠে ব্যাবসার এক বিশাল ক্ষেত্র । তৎকালীন সময়ে রাজস্থান থেকে আসা স্বর্ণ ব্যাবসায়ী মান্না লাল রায় এখানে সোনার বিশাল বাজার তৈরি করে (তথ্য : দ্য ডেইলি স্টার)। মাহিগঞ্জ এ প্রচুর রাজস্থানি এবং গুজরাটি ব্যবসায়ীরা বাস করত এমনকি এখনো ওই এলাকায় বড় বড় বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা মারোয়ারী এবং বিহারী। সুতরাং অনুমান করা যায় যে, ভারত থেকে আগত ব্যবসায়ীদের মধ্যে জৈন ধর্মাবলম্বী বণিকদের হাত ধরেই পরেশনাথ মন্দির নির্মিত হয়েছিল।
মাহিগঞ্জের ইতিহাস পর্যালোচনা করে এই অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় যে, নদীবন্দর কেন্দ্রিক মাহিগঞ্জে যে বহুজাতিক বাণিজ্যিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিলো তারই একটি প্রামাণ্য নিদর্শন এই পরেশনাথ মন্দির।
পরেশনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা কাল সঠিক কবে তা নিয়ে বির্তক আছে। মন্দিরের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু পুরাতন দলিল দস্তাবেজ সংগৃহীত রয়েছে, তবে অনুমতির অভাবে সেইসব দেখা ও পাঠ সম্ভব হয় নি। তাই মন্দির সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয়দের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। সাক্ষাৎকার প্রদানকারীগণ হলেন- অরন্য ধর (স্থানীয় এলাকার ছাত্র), তপন শর্মা (বর্তমান মন্দির কমিটির সদস্য), ডা. মানস সেনগুপ্ত (পূর্ববর্তী মন্দির কমিটির সদস্য), শংকর চন্দ্র ধর (পূর্ববর্তী মন্দির কমিটির সদস্য), এবং জনৈক এলাকাবাসী। সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ হলো-
০১. মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল ১৭৬০ খিষ্ট্রাব্দ (আনুমানিক)
০২. মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা গুজরাটি এবং রাজস্থানি বণিক এদের মধ্যে জীবণ চাঁননাহাটা এবং প্রেম চাঁননাহাটা প্রমুখ
০৩. ১৯৭৮ সালে মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয় তৎকালীন বড় ব্যবসায়ী এবং মারোয়ারি কিছু পরিবার এর সহযোগিতায়
০৪. মন্দিরটি দেবোত্তর এবং পরেশনাথ দেবতার নামে উৎসর্গ কৃ্ত সেই থেকে নাম দেওয়া হয়েছে পরেশনাথ মন্দির
০৫ . মন্দিরটি বহুকাল যাবৎ জঙ্গলআবৃত ছিল এবং এর মূল বিগ্রহ মন্দির এ ছিল না কিন্তু মন্দিরের দেয়াল এবং বেদী ভালো ছিল
০৬. লোকমুখে শোনা যায় বর্তমান শিব লিঙ্গটি রংপুরের অন্য আরেকটি মন্দির “করুণাময়ী কালীবাড়ী” থেকে নিয়ে পরেশনাথ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়
০৭. অনেকে মনে করে এই মন্দির এর সাথে ঐতিহাসিক চরিত্র জগৎ শেঠ এর সম্পর্ক আছে
০৮. মুক্তিযুদ্ধের সময় এই মন্দিরের পাশে অবস্থিত রংপুর পাব্লিক লাইব্রেরী পাকিস্থানি হানাদারদের দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং লাইব্রেরীর সব বই পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এখানে মন্দির সম্পর্কিত অনেক তথ্য ছিল । এছাড়াও মন্দিরে হামলা করে অনেককিছু ধ্বংস ও লুট করা হয়
এছাড়াও মন্দির এর দেয়ালের ফলক থেকে জানা যায় মন্দিরের সংস্কারের সময় । ২০০৪ সালে মন্দির টি আবার সংস্কার করা হয় এবং এটিও এক মারোয়ারি পরিবার থেকে করা হয়।

ছবি : মন্দিরের একটি নামফলক
পরেশনাথ মন্দিরের স্থাপনা বারবার সংস্কার হওয়ার কারনে প্রাচীন মন্দিরের স্থাপত্যিক নিদর্শন পরিলক্ষিত হয় না। শুধুমাত্র মন্দিরের অভ্যন্তরে গর্ভগৃহের মূলবেদীটি আগের মতোই আছে। এই মূলবেদীর নির্মানশৈলী থেকে পরেশনাথ মন্দিরের আদি স্থাপত্য সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করা যায়।
মূলবেদীর বিবরণ : মন্দির এর গর্ভগৃহে অক্ষত বেদী স্থাপিত আছে। বেদীটি সম্পূর্ণ মকরানা মার্বেল দিয়ে তৈরি। এটির নির্মাণ শৈলীতে “মারু-গুর্জর” শৈলীর লক্ষ্যনীয়। মারু-গুর্জর হলো পশ্চিম ভারতের গুজরাট এবং রাজস্থানে ১১শ থেকে ১৩শ শতাব্দীর মধ্যে বিকশিত একটি অলঙ্কারপূর্ণ হিন্দু ও জৈন মন্দির স্থাপত্যশৈলী। এই শৈলীর স্থাপত্যে স্তম্ভ ও চূড়ার ব্যাবহার করা হয় এবং দেয়ালের বহির্গাত্রে খাঁজ ও কার্নিশের সমন্বয় থাকে। স্তম্ভ, ছাদ ও দেওয়ালের প্রতিটি অংশে সূক্ষ্ম ফুলের নকশা, পৌরাণিক চরিত্র ও মূর্তির নিখুঁত কাজ থাকে।
পরেশনাথ মন্দিরের মূলবেদীর নিচে্র অংশে রয়েছে সাদা মার্বেলের উচু পাটাতন। সামনের দিকে পদ্ম-দল বর্ডার করাচ। দুই পাশে দুটো স্তম্ভের গায়ে দ্বারপালের মূর্তি সংযুক্ত যারা ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে যাদের হাত ভগ্ন। তোরন/খিলান “ইন্দো-ইসলামিক কাস্পড আর্চ” যা রাজস্থানের স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ঠ্য। শিখর/ছাদ “বঙ্গজ/দোচালা” ধাচের এবং ছাদটি পদ্ম ও পদ্মকুড়ি দিয়ে অলংকৃত। পুরো বেদী টি একটি ছোট মন্দির যা “দেব-কুলিকা” র মতো। একে “ছত্রী-মন্ডপ” বলে। বেদীটি দেখে মনে হয় উৎকৃষ্ট মানের শ্বেতপাথর দিয়ে তৈরি করা যা তাজমহলের মার্বেল সদৃশ্য।
সুতরাং অনুমান করা যায় যে, গুজরাট এবং রাজস্থানের স্থানীয় স্থাপত্যশৈলীর সাথে বাংলার স্থানীয় শৈলীর সংমিশ্রণে পরেশনাথ মন্দিরের আদি স্থাপত্যটি নির্মিত হয়েছিল। এছাড়া মন্দিরের গর্ভগৃহকে কেন্দ্র করে চারপাশে আছে খোলা বারান্দা যা পরে সংযুক্ত হতে পারে ।

ছবি : পরেশনাথ মন্দিরের গর্ভগৃহের মূলবেদী
যেহেতু বর্তমানে পরেশনাথ মন্দিরে শিবের আরাধনা করা হয় তাই এর গর্ভগৃহের মূলবেদীতে রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ, পাশে রয়েছে গরুড় ও ত্রিশূল। ১৯৭৮ সালে মন্দির সংস্কারের সময় কিছু খন্ডিত প্রতিমা পাওয়া যায় যেগুলো আজও মন্দির কমিটির অফিসে সংরক্ষিত আছে। খন্ডিত প্রতিমা গুলোর মধ্যে রয়েছে একটি হনুমানের মাথা, একটি গরুড়ের মূর্তি, এবং একটি জৈন তীর্থংকরের প্রতীমা। হনুমান এবং গরুড়ের মূর্তিগুলো বেলে পাথরের তৈরি যা খুব বেশি পুরাতন নয়।
ছবি : ভগ্ন হনুমানের মাথা

ছবি : গরুড় মূর্তি

ছবি : ঋষভনাথ/ আদিনাথ (জৈন তীর্থংকর )
পূর্বেই বলা হয়েছে, বর্তমানে পরেশনাথ মন্দির একটি হিন্দু মন্দির হলেও এটি মূলত জৈন মন্দির হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। মন্দির থেকে প্রাপ্ত জৈন তীর্থংকরের প্রতীমা এই বিষয়ের অকাট্য প্রামাণ্য দলিল। “পরেশনাথ/পার্শ্বনাথ” নামটি মূলত জৈন ধর্মের ২৪ জন তীর্থংকরের মধ্যে একজনের নাম । শিবের কোনো নাম “পরেশনাথ” হিন্দু ধর্মগ্রন্থে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ মন্দিরের নাম টি জৈন তীর্থংকরের নাম থেকে এসেছে মন্দির এর মূলবেদীর স্থাপত্য সাধারণত কোনো শিব মন্দিরে দেখা যায় না এবং শিবলিঙ্গ এর সাথে সবসময় জলাধার সংযুক্ত থাকে যা এই মন্দিরে নেই। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা কারা করেছে তা নিয়ে সঠিক জানা না গেলেও তা যে বাঙ্গালিরা করেনি এটা নিশ্চিত । তৎকালীন মাহিগঞ্জ এ অনেক বিদেশী ছিল এবং তারা অনেকেই জৈন ধর্মালম্বীও ছিল। দলিল থেকে প্রাপ্ত নাম (প্রেম চাঁননাহাটা ও জীবণ চাঁননাহাটা) নামের পদবি কোনো হিন্দু পদবি না । এবং সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো মন্দির থেকে পাওয়া জৈন তীর্থংকরের মূর্তি ।প্রাপ্ত জৈন তীর্থংকরের মূর্তিটি “ঋষভনাথ/ আদিনাথ” এর। ঋষভনাথ (আদিনাথ) হলেন জৈন ধর্মের প্রথম তীর্থঙ্কর। তিনি অযোধ্যার রাজা নাভি ও রানি মরুদেবীর ঘরে জন্ম নেন। তাঁকে আদিনাথ, আদিশ্বর, যুগাদিদেবও বলা হয়। জৈনরা বিশ্বাস করে, ঋষভনাথ শুধু ধর্মের প্রবর্তক নন, তিনিই মানব সভ্যতার জনক। তিনিই মানুষকে প্রথম চাষবাস, আইন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকলা, লেখাপড়া শিখিয়েছেন। তাঁর কন্যা ব্রাহ্মীকে তিনি ব্রাহ্মী লিপি শেখান।সংসারের ক্ষণস্থায়ীতা বুঝে তিনি রাজ্য ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হন। ১০০০ বছর তপস্যার পর কেবল জ্ঞান লাভ করেন এবং কৈলাস পর্বতে মোক্ষ প্রাপ্ত হন। তাঁর প্রতীক হলো ষাঁড় বা বৃষ, আর মূর্তিতে কাঁধ পর্যন্ত লম্বা জটা থাকে (তথ্য : জৈন শাস্ত্র কল্পসূত্র)। প্রাপ্ত ভাস্কর্যে দেখা যায় যে বাহন ঋষভ এবং মাথায় জটা আছে । মূর্তিটির নিচে দেবনগরী ভাষায় মূর্তির প্রতিষ্ঠাকাল এবং প্রতিষ্ঠাতার নাম লেখা যা অস্পষ্ঠ হয়ে গেছে এবং ভাষাগত অদক্ষতা থাকায় উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। তবে এটি যে জৈন মূর্তি তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
যেকোনো জৈন মন্দিরের বৈশিষ্ঠ্য হলো মূলদেবতার সাথে আরো কিছু দেবতা থাকে। পরেশনাথ মন্দির ও এর ব্যাতিক্রম নয় , অর্থাৎ স্থাপত্য এবং কিছু প্রমাণ সাপেক্ষে বলা যায় যে এটি হিন্দু মন্দির হওয়ার পূর্বে জৈন পরেশনাথ তীর্থংকরের মন্দির ছিল। পার্শ্বনাথ বা পরেশনাথ হলেন জৈন ধর্মের ২৩তম তীর্থঙ্কর এবং ইতিহাস-স্বীকৃত প্রথম তীর্থঙ্কর। খ্রিস্টপূর্ব ৮ম-৭ম শতকে বেনারসের রাজা অশ্বসেন ও রানি বামাদেবীর ঘরে জন্ম নিয়ে তিনি মহাবীরের ২৭৩ বছর আগে ধর্ম প্রচার করেন। তিনি চার মহাব্রত – অহিংসা, সত্য, অস্তেয় ও অপরিগ্রহ – প্রচার করেন, যার সাথে মহাবীর পরে ব্রহ্মচর্য যোগ করেন। তাঁর প্রতীক সাপ এবং মূর্তিতে মাথার উপর সর্পফণার ছত্র দেখা যায়। ঝাড়খণ্ডের সম্মেদ শিখর বা পরেশনাথ পাহাড়ে তিনি মোক্ষ লাভ করেন। তাঁকে কলিকালকল্পতরু বলা হয় এবং তিনি জৈন ধর্মের পুনরুজ্জীবক হিসেবে মান্য (তথ্য : জৈনসূত্র)।
পরেশনাথ মন্দির বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিব্যাপ্তির মূর্ত প্রমান। পরেশনাথ মন্দির শুধু হিন্দু বা জৈন মন্দির নয় এটি মাহিগঞ্জ এবং রংপুরের সামাজিক , ধর্মীয় , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক উত্থান-পতনের ঐতিহাসিক প্রমান। এটি রংপুরের সমৃদ্ধ সময়ের এক দলিল স্বরূপ। তবে এর সঠিক ইতিহাস নিয়ে আরো ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন আছে তেমনি রংপুরের মানুষের দায়িত্ব এই অমূল্য সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করা।

সুব্রত রায়
শিক্ষার্থী
শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নাহিন মাহমুদ
খণ্ডকালীন শিক্ষক
শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এবং
ট্রাস্টি সদস্য
বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট
The post পরেশনাথ মন্দিরের অজানা ইতিহাস appeared first on Art Criticism.
]]>The post গ্লিম্পসেস : বাংলাদেশের সমসাময়িক ও আধুনিক শিল্পকলা (GLIMPSES: Contemporary & Modern Art of Bangladesh) appeared first on Art Criticism.
]]>বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রদর্শনী সংগ্রাম, ত্যাগ ও বিজয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি জাতির প্রাণবন্ত শৈল্পিক অভিযাত্রার প্রতিফলন। বাংলাদেশের শিল্পচর্চা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, যা আমাদের জনগণের আবেগ, স্থিতিস্থাপকতা এবং সৃজনশীল কল্পনাকে দৃশ্যমান রূপ দিয়েছে।
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা থাইল্যান্ডে আমাদের বন্ধুদের কাছে বাংলাদেশের—নদীমাতৃক ভূমি, আতিথেয়তা ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দেশ—একটি শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল বয়ান উপস্থাপন করতে চাই।
ব্যাংককস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে, ঢাকা-ভিত্তিক গ্যালারি কোয়া এবং চোনবুরি ও চিয়াং মাইয়ের অনারারি কনস্যুলেটের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীতে আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পকর্মের একটি নির্বাচিত সংগ্রহ উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব শিল্পকর্ম বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল পরিচয় ও বহুমাত্রিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।
এই উদ্যোগ সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের জনগণের মধ্যে গভীরতর সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
বিএসিসি-তে বাংলাদেশ শিল্প প্রদর্শনীর এই দ্বিতীয় সংস্করণটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এই আন্দোলনের পেছনে ছিল আমাদের তরুণদের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বৈষম্যহীন কর্মসংস্থানের ন্যায্য দাবি। আন্দোলনের সময় জনসাধারণের পরিসরে উদ্ভূত শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত গ্রাফিতি শিল্প বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জীবনের সঙ্গে সংলগ্ন শিল্পের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
আমি আন্তরিকভাবে শিল্পপ্রেমী, কূটনৈতিক মহলের সদস্য এবং বাংলাদেশের বন্ধুদের এই প্রদর্শনী পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানাই—যাতে তারা বাংলাদেশের সৃজনশীল চেতনা ও শৈল্পিক অভিব্যক্তিকে সংজ্ঞায়িত করা রং, রূপ ও আবেগের গভীরতা অনুভব করতে পারেন।
এই প্রদর্শনী যেন বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন এবং বাংলাদেশের জনগণের অদম্য ও স্থায়ী চেতনার এক উজ্জ্বল উদযাপন হয়ে ওঠে।
নদী ও স্রোত পেরিয়ে: গ্যালারি কায়ার থাইল্যান্ড প্রদর্শনী
প্রথমে আমি থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাননীয় হি. ই. মি. ফালিয়াজ মুরশিদ কাজী, চন বুরি ও চিয়াং মাইয়ের অনারারি কনসুলেটসমূহ, আমাদের পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ এবং থাইল্যান্ডের বন্ধু ও সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রদর্শনী বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।
এমন এক সময়ে, যখন ভাবনা, চিত্র ও নান্দনিক ভাষা জাতীয় সীমানা অতিক্রম করে দ্রুত প্রবাহিত হচ্ছে, গ্যালারি কায়ার থাইল্যান্ডে আয়োজিত এই প্রদর্শনী একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের চেয়েও অধিক তাৎপর্য বহন করে। এটি শিল্পের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সংলাপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে সক্রিয় করার একটি সচেতন উদ্যোগ।
বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পগ্যালারি গ্যালারি কায়ার আয়োজনে এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের বারো জন শিল্পীর কাজ একটি থাই ভেন্যুতে উপস্থাপিত হয়েছে। স্মৃতি, বস্তুগততা, নগরজীবন এবং কল্পনাশীল চর্চার মতো অভিন্ন মানবিক তাগিদকে কেন্দ্র করে এই প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড—দুই ভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে একটি অর্থবহ সংলাপ নির্মাণ করে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি শিল্পী প্রতিভাকে দৃশ্যমান করার একটি কার্যকর হস্তক্ষেপ।
অভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রবাহ
ভাষা, ধর্ম ও ইতিহাসে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড উভয়ই নদীকেন্দ্রিক ভূগোল দ্বারা গঠিত সমাজ। বাংলাদেশে গঙ্গা–ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ এবং থাইল্যান্ডে চাও ফ্রায়া ও অন্যান্য জলপথ—উভয় ক্ষেত্রেই নদী বসতি, কৃষি, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক কল্পনাকে দীর্ঘকাল ধরে প্রভাবিত করেছে। এই বাস্তবতা উভয় সংস্কৃতিতে প্রবাহ, ঋতুচক্র ও স্থিতিস্থাপকতার প্রতি একটি সাধারণ নান্দনিক সংবেদন গড়ে তুলেছে।
ধর্মীয় ও আচারিক জীবনেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাযুজ্য লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশ প্রধানত মুসলিম এবং থাইল্যান্ড প্রধানত বৌদ্ধ হলেও, উভয় সমাজেই সামষ্টিক উৎসব, ভক্তিমূলক শিল্প এবং লোকধর্মের সমন্বয়বাদী রূপ শক্তিশালীভাবে উপস্থিত। বাজার, শোভাযাত্রা, উপাসনাস্থল ও দৈনন্দিন জীবনের দৃশ্যভাষা—রং, অলংকার, নকশা ও পাওয়া বস্তু—সমকালীন শিল্পে বিষয় ও নির্মাণ-পদ্ধতি হিসেবে প্রতিফলিত হয়।
উভয় দেশের সমৃদ্ধ বস্ত্রঐতিহ্যও শিল্পচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বাংলাদেশের বুনন ও রঞ্জন কৌশল এবং থাইল্যান্ডের জটিল বস্ত্রঐতিহ্য সমকালীন শিল্পীদের হাতে ইনস্টলেশন, মিশ্রমাধ্যম ও ভাস্কর্যধর্মী কাজে নতুন রূপ ও অর্থ লাভ করে।
নগর অভিজ্ঞতা ও সমকালীন প্রশ্ন
ঢাকা ও ব্যাংকক—উভয়ই দ্রুত রূপান্তরশীল মহানগর, যেখানে অবকাঠামোগত পরিবর্তন, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও পরিবেশগত ঝুঁকি সমানভাবে বিদ্যমান। এই নগর বাস্তবতা আবাসন, শ্রম, দৃশ্যমানতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা উভয় দেশের শিল্পীদের কাজেই প্রতিফলিত হয়। প্রামাণ্যচর্চা, সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত প্রকল্প এবং কল্পনাশীল ভবিষ্যৎ নির্মাণের মাধ্যমে শিল্পীরা এসব অভিজ্ঞতাকে অনুসন্ধান করেন।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রেক্ষিত
পশ্চিমা শিল্পকেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত গ্যালারি ও শিল্পীদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি বাস্তব প্রয়োজন। বাংলাদেশের শিল্পচর্চা প্রায়ই বৈশ্বিক শিল্পবয়ানের প্রান্তে অবস্থান করলেও, এই প্রদর্শনী শিল্পীদের জন্য নতুন দৃশ্যমানতা ও সম্পর্কমূলক পুঁজি তৈরি করে। থাইল্যান্ডে প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিউরেটর, সংগ্রাহক, সমালোচক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে।
গ্যালারি কায়ার কিউরেটোরিয়াল অবস্থান
আয়োজক হিসেবে গ্যালারি কায়ার ভূমিকা কেবল লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। একটি বাংলাদেশি গ্যালারির উদ্যোগে থাইল্যান্ডে প্রদর্শনী আয়োজন সাংস্কৃতিক বিনিময়কে একমুখী পশ্চিমমুখী প্রবাহ হিসেবে দেখার ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। এটি দেখায় যে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক হতে পারে সমানতাল, পারস্পরিক ও সৃজনশীল।
ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা শিল্পীদের এই সমাবেশ কৌশল, উপকরণ ও ভাবনার আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করে, যা শিল্পী বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার সম্ভাবনা প্রসারিত করে।
গৌতম চক্রবর্তী
পরিচালক
গ্যালারি কায়া

আশরাফুল হাসান একজন চিন্তাশীল শিল্পী, যাঁর চিত্রকর্ম নতুন ও সতেজ ভাবনার দিকে দর্শককে আহ্বান জানায়। তিনি অ্যাক্রিলিক, চারকোল ও প্যাস্টেল মাধ্যমে আধা-রূপক চিত্রভাষায় সূক্ষ্ম বিবরণে কাজ করেন। তাঁর শিল্পে বন উজাড়, নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে প্রকৃতি ও মানবতার অমানবিক দিকগুলোর ক্ষয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত। গাছ ও মানুষের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ককে তিনি একীভূত রূপে উপস্থাপন করেন, যা পরিবেশগত ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরে।
আশরাফুল মনে করেন, শিল্পের পবিত্রতা বস্তুবাদী আকাঙ্ক্ষায় কলুষিত হওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণে তিনি বিশ্বাসী। নীরব ও প্রজ্ঞাবান এই শিল্পীর কাছে শিল্প একটি চলমান যাত্রা—বিষয় বদলালেও তাঁর স্বতন্ত্র শৈলী অটুট থাকে।




চন্দ্র শেখর দে একজন বহুমাত্রিক শিল্পী, যিনি তাঁর দীর্ঘ শিল্পীজীবনে নানা শৈলী ও প্রকাশভঙ্গি দক্ষতার সঙ্গে অনুসন্ধান করেছেন। বাস্তববাদ থেকে শুরু করে অতিবাস্তব, লোকজ, বিমূর্ত ও প্রতীকী ধারার সমন্বয়ে তাঁর শিল্পকর্মে মানবজীবনের গভীর অনুভব, রহস্যময়তা ও কাব্যিক আবহ স্পষ্ট। মুক্তিযুদ্ধ-প্রভাবিত প্রজন্মের শিল্পী হিসেবে আলো-ছায়ার নাটকীয় ব্যবহার, মানবমূর্তি ও কল্পনাপ্রসূত রূপকের মাধ্যমে তিনি বাস্তব ও কল্পনার সেতুবন্ধন ঘটিয়েছেন। তাঁর কাজে সূক্ষ্ম রেখা, মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা ও নিবেদিত শ্রম শিল্পকে দিয়েছে স্বতন্ত্র ও সংবেদনশীল মাত্রা।

হামিদুজ্জামান খান ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ভাস্কর, যিনি শিল্পজগতে নিজস্ব স্বতন্ত্র পথ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর শিল্পকর্মে রূপ, বিষয়বস্তু ও বৈচিত্র্যের স্পষ্ট স্বাক্ষর দেখা যায়। তাঁর অধিকাংশ ভাস্কর্য হয় শৈল্পিকভাবে রূপান্তরিত মানবাকৃতি (নারী ও পুরুষ উভয়ই) অথবা বিমূর্ত রূপে নির্মিত। তিনি রঙিন স্টিল, কংক্রিট, গ্রানাইট, প্লাস্টার অব প্যারিস, লোহা, ব্রোঞ্জ, সাদা গ্রানাইট, কালো মার্বেল, ক্যারারা মার্বেল, গোলাপি গ্রানাইট, সবুজ ও সাদা মার্বেলের সংমিশ্রণ, সিমেন্ট এবং নানা ধরনের ধাতু ব্যবহার করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কাজ ব্রোঞ্জ মাধ্যমে নির্মিত, যেখানে তিনি বসা মানবমূর্তি, গতিশীল মানবদেহ, বিশুদ্ধ রূপ, পশু, মাছ, পাখি এবং জ্যামিতিক নকশা উপস্থাপন করেছেন। পাথরের কাজে জ্যামিতিক রূপ ও নকশার পাশাপাশি পাখি, গৃহপালিত প্রাণী এবং মানবমুখের প্রতীকী চিত্র দেখা যায়। তিনি বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত ও তিন-চতুর্থাংশ বৃত্তের নানা বিন্যাস তৈরি করেছেন, যা সৌরজগতের গ্রহসমূহের প্রতীক হিসেবে ধরা যায়। তাঁর কাজে বীজ, মূল, পত্রপল্লব এবং প্রতীকী মানবাকৃতির মতো উদ্ভিদ জগতের বিষয়ও উঠে এসেছে, পাশাপাশি নানা দেশজ রূপের ব্যবহার লক্ষণীয়।
হামিদুজ্জামান খান একজন নিবেদিত চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি চিত্রকলায় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাঁর জলরঙের কাজ গভীরভাবে অনুপ্রেরণাদায়ী এবং পরিণত মননের পরিচয় বহন করে। কল্পনাপ্রবণ শিল্পী হিসেবে তিনি প্রকৃতির বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জগতের মধ্যে সৃষ্টির রহস্য অনুসন্ধান করেছেন। তাঁর চিত্রে প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের সহাবস্থানমূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্য ও শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গি একীভূত হয়ে প্রকৃতির সূক্ষ্ম রঙ ও দৃশ্যাবলিকে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছে।
হামিদুজ্জামানের কাজের বিভিন্ন পর্যায় স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়। তিনি রং, রেখা এবং ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের উপাদান ব্যবহার করে এক নতুন শিল্পভাষা নির্মাণ করেন। তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর্মে রূপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর ভাস্কর্যচর্চার প্রভাব স্মরণ করিয়ে দেয়। ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক বা জলরঙ—উভয় মাধ্যমেই তাঁর চিত্রগুলো যেন প্রবাহমান স্রোতের মতো অনুভূত হয়। তিনি প্রকৃতির রহস্য ও তার নানান পর্যায় ধারণ করার চেষ্টা করেছেন।
গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন ভ্রমণের কারণে তাঁর শিল্পকর্মে (বিশেষত জলরঙে) সবুজ প্রকৃতি, গ্রামীণ প্রাকৃতিক দৃশ্য, মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ঘন বন ও পাহাড়ের উপস্থিতি প্রবল। কখনো কখনো তাঁর জলরঙে ছায়া ও অস্পষ্ট অবয়ব ফুটে ওঠে। ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক চিত্রে উজ্জ্বল রঙ ও খসখসে টেক্সচারের ব্যবহার লক্ষণীয়। উল্লেখযোগ্য যে, চিত্রকলায় তিনি বিমূর্ত অভিব্যক্তিবাদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন, যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত ও সাহসী তুলির আঁচড় কাজের মূল বৈশিষ্ট্য। প্রয়োজনে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গভীর টেক্সচারও নির্মাণ করেছেন।



আইভি জামান একজন খ্যাতনামা ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী। তিনি ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ভাস্কর্যে বিএফএ সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে ভারতের শান্তিনিকেতনে ভাস্কর্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কাঠ, সিমেন্ট, ব্রোঞ্জ, পাথর ও ধাতুতে কাজ করে নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছেন।
প্রকৃতি তাঁর শিল্পের প্রধান প্রেরণা। নদী, পাহাড়, পাখি, গাছ, বীজ ও দেশীয় রূপক তাঁর ভাস্কর্য ও চিত্রকর্মে বারবার ফিরে আসে। তাঁর ল্যান্ডস্কেপ চিত্রগুলো রঙের মাধ্যমে প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরে। শৈশবে বগুড়ার করতোয়া নদীর তীরের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পচিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বুদ্ধ বিষয়ক চিত্র ও ভাস্কর্য নির্মাণেও মনোনিবেশ করেছেন।




কনক চাঁপা চাকমা আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা একজন বিশিষ্ট শিল্পী। তিনি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল থেকে উঠে আসা এবং তাঁর চিত্রকর্মে মূলত পাহাড়ি জীবনের রূপায়ণ দেখা যায়। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, তাদের সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তাঁর শিল্পের প্রধান বিষয়।
তাঁর কাজে নরম পৃষ্ঠ, ঘন টেক্সচার এবং সচেতন স্থানবিন্যাস একটি স্বতন্ত্র শৈলী তৈরি করেছে। পাহাড়, বন, ঝুম চাষ, জলপ্রপাত, নৃত্য–সংগীত ও বৌদ্ধ দর্শনের শান্ত আবহ তাঁর শিল্পে প্রতিফলিত হয়। আধা-বাস্তব ও বিমূর্ত রীতির সমন্বয়ে আঁকা চিত্রগুলো প্রাণবন্ত ও অভিব্যক্তিময়।
কনক চাঁপা চাকমা আলোকছায়া ও রঙের ব্যবহারে ইমপ্রেশনিস্ট শিল্পীদের দ্বারা প্রভাবিত। তিনি সাধারণত আলোকচিত্রের মতো বাস্তবতা ও অতিরিক্ত সূক্ষ্মতা এড়িয়ে চলেন। রঙের স্তর ও টেক্সচারের ঘনত্বই তাঁর চিত্রভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্য।




নব্বইয়ের দশকে ঢাকার শিল্পাঙ্গনে খ্যাতি অর্জনকারী চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল দার্শনিক ভাবনা ও উদ্ভাবনী চিত্রভাষার জন্য পরিচিত। তাঁর ক্যানভাসে সাধু, মরমি, প্রান্তিক মানুষ ও শিশু বারবার ফিরে আসে; সাম্প্রতিক সময়ে অবহেলিত শিশুদের জীবনই তাঁর প্রধান বিষয়।
শুরুর দিকে ইকবাল বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দিয়ে ইমপাস্টো কৌশলে রঙের ঘন প্রয়োগ করতেন। বর্তমানে তিনি ক্যানভাসের পটভূমি নির্মাণে বিশেষ মনোযোগী—৮–১০ স্তরে রঙ বসিয়ে তারপর বিষয়কে স্পষ্ট করেন। বিমূর্ত পটভূমি, নরম রঙ, ডট ও অস্পষ্ট আকার তাঁর কাজে লক্ষণীয়।
বাউল ও সাধুদের জীবনদর্শন তাঁর শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা। লাল পোশাক, জপমালা, তাবিজ, প্রাণী ইত্যাদি প্রতীকের
মাধ্যমে তিনি আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক যন্ত্রণাকে প্রকাশ করেন।




রঞ্জিত দাস তাঁর স্বতন্ত্র শৈলী ও গভীর ভাবনানির্ভর বিষয়বস্তুর জন্য পরিচিত। ১৯৭০-এর দশকের অন্যতম প্রধান চিত্রশিল্পী হিসেবে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ সময়ে রাষ্ট্র স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব বহন করছিল এবং দেশ নানাবিধ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট ও দ্বিধার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে শিল্প ও সাহিত্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সজীব ধারণায় সমৃদ্ধ হয়। রঞ্জিত দাস সমসাময়িক সমাজের পরিবর্তন, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
১৯৮১ সালে ভারতের বরোদার এম.এস. ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তাঁর শিল্পচর্চা ধীরে ধীরে একটি পরিণত রূপ লাভ করে। তিনি প্রখ্যাত শিল্পী কে.জি. সুব্রহ্মণ্যমের প্রত্যক্ষ ছাত্র ছিলেন। তাঁর চিত্রকর্মে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, আনন্দ-বেদনা, আশা ও স্বপ্ন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। দীর্ঘ শিল্পযাত্রায় তিনি নিজেকে একজন নিষ্ঠাবান ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ফিগারেটিভ চিত্রকর্মে বাস্তবতার সঙ্গে সামান্য বিকৃত রূপের সংমিশ্রণ দেখা যায়। বর্তমানে তিনি মানব অবয়ব, মুখমণ্ডল ও বিভিন্ন আকারের গঠন নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর ক্যানভাসে কুকুর, ঘোড়া, কাক, রাজহাঁস ও ময়ূরের মতো নানা প্রাণীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে ঘোড়া ও কুকুর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মোটিফ, যা প্রতীকী অর্থ বহন করে। এসব প্রাণীর যন্ত্রণা, আনন্দ ও অনুভূতি তিনি ব্যক্তিগত ও উজ্জ্বল ভাষায় প্রকাশ করেন।
রঞ্জিত দাস রেখা ও টেক্সচারের ক্ষেত্রে একান্ত নিজস্ব ভঙ্গি নির্মাণ করেছেন। জ্যামিতিক ও স্থাপত্যিক গঠনের মাধ্যমে তিনি অভিব্যক্তির সীমা অনুসন্ধান করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর ক্যানভাস জুড়ে প্রসারিত একটি সোজা রেখা বা বার তাঁর শিল্পের স্বাক্ষরচিহ্নে পরিণত হয়েছে। তাঁর কাজে স্ক্রিবল, রেখা, তীরচিহ্ন, ভাঙা রেখা, লুপ, কার্ল, বর্গ, ডিম্বাকারসহ নানা আকৃতির ব্যবহার দেখা যায়। রঙ, রেখা, টেক্সচার ও টোন নিয়ে তিনি বহুস্তরীয় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছেন।
বৃহৎ ক্যানভাসে কাজ করতেই তিনি সর্বাধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কারণ তাঁর বিষয়বস্তু ও কম্পোজিশনের জন্য পর্যাপ্ত পরিসর প্রয়োজন। তাঁর চিত্রকর্মে অবয়ব ও শূন্যস্থানের মধ্যে এক গতিশীল সম্পর্ক তৈরি হয়, যা দৃঢ় ও প্রবাহমান তুলির আঁচড়ে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অবয়ব কখনো ক্যানভাসের কেন্দ্রে, কখনো প্রান্তে অবস্থান করলেও পটভূমি সবসময় সম্পূর্ণ বিমূর্ত থাকে। এই দুই উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জটিল, এবং রঞ্জিত দাস তা দক্ষতার সঙ্গে বজায় রাখতে সক্ষম।




শম্ভু আচার্য একজন প্রখ্যাত পটচিত্র শিল্পী। তাঁর পরিবার প্রায় ৪৫০ বছর ধরে, টানা নয় প্রজন্ম ধরে পটচিত্র চর্চার সঙ্গে যুক্ত। গাজীর পট, শ্রীকৃষ্ণ, মহররম, রামায়ণ, মহাভারত, মনসামঙ্গল, রাসলীলা ও লোকজ সংস্কৃতিনির্ভর নানা বিষয় তাঁর চিত্রে উঠে আসে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও পটচিত্রের ঐতিহ্যগত পরিবেশ অনেকটাই ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও, শম্ভু আচার্য এই প্রাচীন শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
পটচিত্র বা ‘কাপড়ে আঁকা ছবি’ লোককথা, পুরাণ ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। শম্ভুর শিল্পকে আলাদা করে তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও সাধনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি—তাঁর কাছে ছবি আঁকা প্রার্থনার মতো। তিনি ইট, বীজ, পাথর, প্রদীপের কালি, সিঁদুর, ডিমের কুসুম, সাবুদানা, তেঁতুলের বীজ ও নানা ধরনের মাটি ব্যবহার করে নিজেই রং তৈরি করেন। তাঁর চিত্রে গ্রামীণ জীবনের সরলতা, সমতল রঙের ব্যবহার, স্পষ্ট সীমারেখা ও পূর্ণ গল্পের বর্ণনা দেখা যায়। নারীর রঙিন পোশাক, রুপার অলংকার, নদী, নৌকা, ফুল, পাখি ও মানবিক অনুভূতি মিলিয়ে তাঁর পটচিত্র আমাদের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে জীবন্ত করে তোলে।




শেখ আফজাল হোসেন-১৯৮০-এর শেষের দিকে একজন প্রখ্যাত বাস্তববাদী চিত্রশিল্পী হিসেবে পরিচিত। সমাজ-অর্থনৈতিক বিষয়ে গভীর আগ্রহের সঙ্গে তিনি দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কঠিন জীবন বাস্তবমুখীভাবে চিত্রিত করেছেন।
জেনাইদাহে জন্ম নেওয়া আফজাল প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। তিনি প্রাথমিকভাবে ল্যান্ডস্কেপ চিত্রায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ঋতু, নদীজীবন, গ্রামীণ দৃশ্য, কৃষি চাষাবাদ, জলের পুকুর ও মৎস্যজীবন চিত্রিত করেছেন। শহরে থাকলেও জন্মস্থান ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট।
Afzal-এর কাজের বিষয়বস্তু মূলত নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, নদী ও গ্রামীণ দৃশ্য, যুবতীদের সৌন্দর্য, মৎস্যজীবী, নৌকাশ্রমিক, গবাদি পশু, দিনমজুর ও পারিবারিক আনন্দ। চিত্রগুলোতে চেহারার অভিব্যক্তি প্রাণবন্ত ও আনন্দময়। তিনি শিশু-মাতা সম্পর্ক, বৃদ্ধ মানুষের জীবন, পরিবারের সুখ-দুঃখও ফুটিয়ে তুলেছেন।
শেখ আফজাল একজন দক্ষ *প্রতিমূর্তি চিত্রশিল্পী*। তিনি দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যক্তি ও সেলিব্রিটি চিত্রায়ন করেছেন। আলো ও ছায়ার সঠিক ব্যবহার তার চিত্রকর্মের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

Artist introductions by Takir Hossain:- এই প্রোগ্রামটি উপস্থাপন করেন তকীর হোসেন
১৯৭৫ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ২০০০ সাল থেকে সমকালীন বাংলাদেশি শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে লিখছেন। তাঁর গভীর আগ্রহের ক্ষেত্র হলো শিল্প ও সাহিত্য। একজন শিল্প সমালোচক হিসেবে তাঁর সমালোচনামূলক লেখা বহু খ্যাতনামা শিল্পীর বই, ব্রোশিওর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প জার্নাল, জাতীয় ইংরেজি দৈনিকসহ বিভিন্ন সৃজনশীল প্রকাশনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে মূল বক্তৃতা উপস্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন শিল্প প্রতিযোগিতা ও কার্নিভালে বিচারকের ভূমিকায় সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর উজ্জ্বল কর্মজীবনে তিনি ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত বহু আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কভার করে।
একটি চিত্রকর্ম শুধু চিত্রকর্মই নয়। এর মাধ্যমে দেশ, মানুষ দেশের মানুষের পরিস্থিতি, মনের খোরাক, দর্শনার্থীর বিনোদন, অনুকূল / প্রতিকূল সব কিছুই প্রকাশিত হয়।
যার মাধ্যমে চিত্রকর এবং চিত্রকর্মের বিষয় বিস্তারিত তথ্য আমরা যানতে পারি।
The post গ্লিম্পসেস : বাংলাদেশের সমসাময়িক ও আধুনিক শিল্পকলা (GLIMPSES: Contemporary & Modern Art of Bangladesh) appeared first on Art Criticism.
]]>The post গুহাচিত্র কী এবং কেন আঁকা হতো? appeared first on Art Criticism.
]]>আনুমানিক ৪০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে যখন তুষারযুগ ছিলো তখনই মূলত প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ভেতরে চিত্রনির্মাণের মানসিকতা গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৩৫ হাজার বছর পূর্বের গুহাবাসি মানুষের বসবাসের অনেক তথ্য-উপাত্ত খুজে পাওয়া গেছে।
কেন গুহাচিত্র আঁকা হতো এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে গেলে যে বিষয়টি স্বচ্ছ হয়ে আসে তা হচ্ছে প্রাগৈতিহাসিক মানুষদের যাদুবিশ্বাস। শিকারী জীবনে প্রবেশ করার পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত মানুষ ছিল প্রকৃতির কাছে অসহায়। আর এই অসহায়ত্বের কারনেই অগ্নি, বায়ু এবং পানির কাছে নিজেকে সমর্পন করে মানুষ আর মহাশক্তির রূপক কল্পনা করে বিশ্বাস এবং প্রার্থণা করার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে। সূচনা ঘটে যাদু বিশ্বাসের। হাতিয়ার আবিস্কারের জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়েই মানুষ তার টিকে থাকা নিশ্চিত করে এবং সামনের সময়ের জন্য প্রস্তুত হয়। আর এই প্রস্তুতির জন্য তাদের কিছু কিছু বিশ্বাসকে আচারিক করে তোলে এবং নানা অনুষ্ঠানাদির মধ্য দিয়ে এই বিশ্বাসগুলোকে তারা জীবনের সাথে প্রামাণ্যকর্ম হিসেবে যুক্ত করে ফেলে।
একদিকে ক্ষুধা আরেকদিকে নিরাপদে বেঁচে থাকা মূলত এই দুইটি কারনেই তাদের যাদুবিশ্বাস তাদের জীবনগতির সাথে পালিত হতে থাকে। হিংস্র প্রাণীর থাবা থেকে নিজেকে রক্ষা করার এবং পশু শিকার করে নিরাপদে ফিরে আসার জন্যও তারা যাদুবিশ্বাসের শরনাপন্ন হতো। তারা বিশ্বাস করতো যে প্রাণীর ছবি নিখুতভাবে আঁকা হবে সেই প্রাণী যতই হিংস্র হোক সেই প্রাণী দ্বারা কোনো ধরণের ক্ষতির স্বীকার হবেনা। পশুশিকারে যাবার পূর্বে তারা পশুর ছবি একে তার চারপাশে দলবেঁধে প্রদক্ষিণ করতো এবং তীরবিদ্ধ করতো। আবার দেয়ালে বন্যপ্রাণীর ছবি এঁকে তাতে তীরবিদ্ধ করা হতো। কারন হচ্ছে তারা মনে করতো এতে করে তারা পশু শিকারে গেলে পশুকে খুব সহজে শিকার করতে পারবে এবং নিরাপদে ফিরে আসতে পারবে।
প্রাগেতিহাসিক মানুষেরা গুহার গভীরে চিত্র রচনা করতো; কারন তাঁরা মনে করতো যে গুহার অভ্যন্তরে ছবি আঁকা থাকলে সেইসকল হিংস্র প্রাণী গুহায় প্রবেশ করবে না এবং তারা নিরাপদে থাকতে পারবে।
দ্য কুয়েভা দে লাস মানোস

আর্জেন্টিনার সান্তা ক্রুজ প্রদেশে অবস্থিত দ্য কুয়েভা দে লাস মানোস। স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ‘হাতের গুহা’ এবং যা ‘কেইভ অব হ্যান্ডস’ নামেও পরিচিত। গুহাটিতে প্রায় ৯ হাজার থেকে ১৩ হাজার বছর আগে আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়া অঞ্চলের আদিম মানুষের আঁকা অসংখ্য হাতের চিত্রের কারণেই এর এই নামকরণ। তবে শুধুমাত্র হাতের চিত্রই নয়; অঙ্কিত এই গুহাটির দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণী, শিকারের দৃশ্য, জ্যামিতিক নকশাসহ বিভিন্ন আঁকাবাঁকা নকশা। গুহাটিকে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
তবে অবাক করার বিষয়-এই গুহায় যতগুলো হাতের চিত্র রয়েছে তার বেশিরভাগই বাম হাতের চিত্র। প্রত্নত্বাত্ত্বিকদের ধারণা- সেকালের মানুষেরা তাদের ডান দিয়ে বাম হাতের উপর রং ছিটিয়ে এই চিত্রগুলো এঁকেছিলো বা ছাপ দিয়েছিলো। হাতে রঙ ছিটানো হয়েছিলো হাড় দিয়ে তৈরি পাইপ দিয়ে। রঙ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিলো প্রাকৃতিক খনিজ রঞ্জক পদার্থ, যেমন- ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড (কালো), চীনামাটি (সাদা), আয়রন অক্সাইড (লাল, রক্তবেগুনী)। রঞ্জক স্প্রে করে হাতের চিত্র তৈরি করতো।
এখন পর্যন্ত এই গুহাচিত্রটি বিশ্বের সবচয়ে দীর্ঘ এবং বিস্ময়কর হাতের ছাপ। এই হাত দিয়ে আসলে কি বোঝানো হচ্ছে তার উত্তর কারও জানা নেই। তবে একটি তত্ত্ব বলে- কিশোরদের দীক্ষা অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই হাতগুলো আঁকা হতো। কারণ বেশিরভাগ হাতই কিশোরদের। বড়দের হাতের সংখ্যা খুব কম। অন্য একটি তত্ত্ব মতে, শিকারে যাওয়ার আগে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে এই হাতগুলো আঁকা হয়েছিলো।
আলতামিরা গুহা

আলতামিরা গুহা স্পেনের উত্তরাঞ্চলের কান্তাব্রিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। ১৮৬৮ সালে আবিষ্কৃত এ গুহাটি প্রায় ৩৩০০ ফুট দীর্ঘ। বাইসন, বন্য ঘোড়া, বুনো শূকর, ছাগল ইত্যাদির এ গুহাচিত্রের বিষয়বস্তু। এটিই ছিল প্রথম গুহা যেখানে প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র আবিষ্কৃত হয়েছিল।
আলতামিরা বাইসন চিত্রকর্মটি আলতামিরার গুহায় পাওয়া কাজের বড় সিরিজের একটি অংশ। এই গুহাচিত্রগুলো প্রায় ১৭ হাজার থেকে ১২ হাজার বছর আগের। এই সময়কালটি আপার প্যালিওলিথিক বা ম্যাগডালেনিয়ান যুগ হিসাবে পরিচিত। ম্যাগডালেনিয়ান যুগকে আবার ‘এজ অব দ্য রেইনডিয়ার’ নামেও ডাকা হয়।
ম্যাগডালেনিয়ান চিত্রশিল্পীরা তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে রঙিন রঞ্জক ব্যবহার করেছেন; যা খনিজ মাটি এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। প্রধানত ব্যবহৃত রং হল লাল, কালো এবং সাদা। লাল রঙ সাধারণত আয়রন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল। কালো রঙ তৈরি করেছিল কাঠ-কয়লা বা ম্যাঙ্গানিজ দিয়ে। সাদা রঙটি প্রাকৃতিক চক, কেওলিনাইট কাদামাটি বা ডায়াটোমাসিয়াস মাটি থেকে তৈরি করা হয়েছিল। এরপর সেগুলো পানি, পশুর চর্বি, রক্ত বা ডিমের কুসুমের মতো তরল দিয়ে মিশ্রিত করে ব্রাশ বা আঙুল ব্যবহার করে রঙ করা হতো। এছাড়াও সেইসময় স্প্রে পেইন্টিং কৌশলগুলোও ব্যবহৃত হত বলে জানা যায়, উদাহরণস্বরূপ, দেয়ালে রাখা একটি হাতের উপর একটি হাড়ের বা ফাঁপা কা-ের টিউবের মাধ্যমে মুখ দিয়ে শুকনো
ছবিতে বেশ সাজানো গোছানো একটি বাইসন দেখা যাচ্ছে। একপাশ থেকে আঁকা হয়েছে যেখানে রংয়ের সাথে রেখার গুরুত্বও প্রকাশ পেয়েছে। রেখার দৃঢ়তা এবং ঋজুতাই বিষয়ের গতিকে স্থির করে দিয়েছে। চিত্রক্ষেত্রের বিভিন্ন স্থানে লাল এবং খয়েরি রংয়ের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার লক্ষনীয়। থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে কাঁচা রং ব্যবহারের সময় শিল্পি ইচ্ছাকৃত ভাবে তা করেননি। তবে লাল এবং কালোর প্রবাহে ছবির ভাষা নান্দনিক এবং মূলত সেই সময়ের সামাজিক তাৎপর্যকে উপস্থাপন করে।
লাসকো গুহা

লাসকো গুহাচিত্র ১৯৪০ সালে আবিষ্কৃত হয়। প্রায় ৬০০টি চিত্র রয়েছে এই গুহাটিতে। অধিকাংশ ছবিতে লাল, হলুদ ও কালো রঙ বিদ্যমান। রঙগুলো তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে খনিজ উপাদান, কয়লা, খড়িমাটি ইত্যাদির সাথে পশুর চর্বি। ১৯৬৩ সালে গুহাচিত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গুহাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৭৯ সালে ইউনেস্কো লাসকো ও তার আশেপাশের গুহাগুলোকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করে।
লাসকো গুহার একটি দেয়ালকে বলা হয় ‘দ্য গ্রেট হল’ যেখানে ৩৬টি প্রাণীর ছবি আছে যার মধ্যে ষাঁড়, ঘোড়া আর হরিণের ছবি প্রধান বিষয়বস্তু। এর মধ্যে একটি ষাঁড়ের ছবির আকার হলো শিং থেকে লেজ পর্যন্ত ১৭ ফুট। এই ছবিটি এই গুহাচিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের চিত্র।
এই চিত্রকর্মটি আকা হয়েছে গুহাটির ছাদে। দেখলে মনে হবে ঘোড়া এবং ষাড়গুলো মাথার উপরে আকাশজুড়ে ছুটে চলেছে। ভাবতেও অবাক লাগে এ ছবিটি এমন একটি সময়ে আকা হয়েছিল যে সময় আমাদের র্প্বূপুরুষরা মই কিংবা পেইন্টিং প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে দড়ি বা পুলির ব্যবহার জানতো না। এই চিত্রকর্মটিতে বেশ কয়েকটি রংয়ের ব্যবহার লক্ষনীয়, যেমন লাল, কালো গাঢ় হলুদ, খয়েরি এবং হালকা ছাই রং। বিভিন্নমুখি বাইসনগুলোকে একটু গতিশীল করে বিন্যাস করা হয়েছে। লাল রংয়ের ব্যবহার একটু বেশী হলেও খয়েরী রংয়ের ব্যবহার এবং কালো রঙের অল্পবিস্তর আস্তরণে বেশ প্রাণময় হয়েছে এই গুহাচিত্রটি। চিত্রের নীচের বামদিকের ছোট বাইসনের গতি অন্য বাইসনগুলোর চেয়ে অনেক বেশী। কাঠি সদৃশ রেখার মাধ্যমে মানুষের ফিগারকে আকা হয়েছে যা বাইসনের তুলনায় অনেকগুণ ছোট।
The post গুহাচিত্র কী এবং কেন আঁকা হতো? appeared first on Art Criticism.
]]>The post অনূভূতির প্রবণতায় শিল্পের আধুনিকতা appeared first on Art Criticism.
]]>The post অনূভূতির প্রবণতায় শিল্পের আধুনিকতা appeared first on Art Criticism.
]]>The post অনূভূতির প্রবণতায় শিল্পের আধুনিকতা appeared first on Art Criticism.
]]>আধুনিক শিল্পকলা: আধুনিক শব্দটি বহুল ব্যবহৃত ও পরিচিত। কিন্তু তারপরও এর অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আর তার কারণ হলো অভিধান। অভিধানে বলা হয়েছে আধুনিক অর্থ বর্তমান কালের, হালের, সাম্প্রকিত, নব্য, অধুনাতা প্রভৃতি। অভিধানের এ অভিমত অনেককেই বিভ্রান্ত করে। তারা ভাবেন বর্তমান বা সাম্প্রতিক সময়ই হচ্ছে আধুনিক সময় কিন্তু শতবর্ষ আগের কিংবা তারও আগের শিল্পকর্ম যে আধুনিক সে কথা তারা ভাবতে পারে না। আজকে যে সময়কে প্রাচিন বলা হচ্ছে প্রকৃত অর্থে সে সময়ও সেই সময়কালে আধুনিক ছিল। আধুনিক শব্দটি মূলত গতি শব্দের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সভ্যতার প্রতিটা যুগেই আধুনিকতার স্পর্শ লেগেছে। মুক্ত মন, উদার নীতি, স্বাধীন শিক্ষা এবং শিল্প সংস্কৃতির গতি ও প্রগতির সাথে যারা যত বেশি একাত্ব হতে পারে তাদেরকে তত বেশি আধুনিক মানুষ হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। আভিধানিক ব্যাখ্যার দৃষ্টিকোন থেকে গুহা যুগের অশিক্ষিত ও অসভ্য মানুষদের সৃষ্ট শিল্পকর্মকে সেই যুগের জন্য আধুনিক শিল্পকর্ম বলা যেতেই পারে। কিন্তু আজকের তুলনায় সে যুগের শিল্পকর্ম অবশ্যই প্রাচীন শিল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। অতীতের শিল্পকর্ম এ জন্যই একইসাথে প্রাচীন এবং আধুনিক।
শিল্পের আধুনিকতা: “শিল্পের আধুনিকতা” বিষয়টা ঠিক কখন থেকে বা কীভাবে আসলো আর কিভাবেই বা একটি চিত্রকর্ম আধুনিক রূপকে ধারণ করে থাকে। বা আধুনিক রূপকে ধারন করবার অথবা নির্মাণ করবার মূল রসটা কী। বিষয়ের উপস্থাপনে একটি চিত্রকর্ম আধুনিক হয়ে ওঠে নাকি নির্মানের কৌশলে। এই বিষয়গুলো অনেকগুলো চিন্তাপ্রসূত বাস্তব ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে। কারণ আমরা স্পেনের আলতামিরা গুহার প্রাগৈতিহাসিক গুহাচিত্র দেখেছি। পৌরানিক ভাস্কর্য দেখেছি, অজন্তা ইলোরার পাথর খোদাইকৃত শিল্পকর্ম দেখেছি। কিন্তু এসব শিল্পকর্মকে আমরা আধুনিক বলছি না। আধুনিক বলছি পিকাসোর ঘনক ফর্মের চিত্রমালাকে যেখানে ফর্মের ভাঙা গড়া হয়েছে। যেমন জ্যাকসন পুলকের চিত্রমালা যেখানে বৃহৎ পরিসরে রংএর গতিপ্রবাহ তৈরি করা হয়েছে। সেগুলোকে আধুনিক চিত্রকলা বলছি। আমরা আধুনিক বলছি এস এম সুলতানের আঁকা পেশীবহুল খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলোকে ; যোগেন চৌধুরীর রেখাপ্রধান ভয়ঙ্কর প্রতিকৃতি বা দেহসৌষ্ঠবের চিত্রমালাকে আধুনিক চিত্রকর্ম বলছি। আবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রকর্মগুলোকে ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার সূচনা সৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করছি।
আধুনিক চিত্র চর্চার পূর্বে চিত্রকলা নির্মাণের নেপথ্যে ছিল শুধুই দৃশ্যরূপের অনুকরণ, কখনো পৌরানিক স। এর বাইরে কিছু এভাবে ভাবা হতো না। সময়ের আবর্তনে শিল্পির চিন্তার পরিবর্তন ঘটলো। দৃশ্যরূপের পাশাপাশি অনুভূতির আশ্রয় প্রশ্রয় ঘটলো। অদেখা রূপকে দেখার প্রবণতা তৈরী হলো। অরূপের ভিতরে রূপকে নিয়ে আশা হলো।
রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ভৌগোলিক অস্থিরতা ভাব বোঝার মধ্য দিয়ে রূপ নির্মাণে শুরু হয়ে গেল। গভীর থেকে অনুভূতির আরোও গভীরে যেতে লাগল সৃষ্টি প্রাণ। ধ্বংস আর সৃষ্টির মাঝে তৈরি হলো মেলবন্ধন। এভাবেই চিত্রকলাতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগল। এই আধুনিকতা মূলত চিন্তার আধুনিকতা বা চিন্তা শক্তির গভিরতা।
জীবন, ধর্ম, সৌন্দর্যচিন্তা, প্রেম, ভালোবাসা, প্রকৃতি এই সবকিছুই দৃশ্য শিল্পের অন্তর্গত। এই দৃশ্যরূপ এবং অনুভূতি একসাথে জীবনের শিল্পিত রূপকে উপস্থাপন করে। দৃশ্যরূপ এবং অনুভুতির যে মিলন এবং এই দু’য়ের মধ্য দিয়ে যে সৃষ্টি যেখান থেকে শিল্পের আধুনিকতার সূচনা ঘটে। চিত্রের মধ্যে অনুভুতির প্রতিস্থাপন রংরেখার ভাষায় যেন বদলে গেল। ক্যানভাস হয়ে উঠলো প্রতিবাদের হাতিয়ার, দাদাবাদী শিল্পিদেরকে আমরা দেখেছি তাদের ছবি কীভাবে প্রতিবাদ করতে পারে। সমাজ জীবন, রাষ্ট্র ভাবনায় শিল্পিদের প্রগতিশীল শিল্প সৃষ্টিতে যে কতটা দৃঢ় ভূমিকা রাখতে পারে আধুনিক শিল্পকলায় তা খুঁজে পাওয়া যায়। আধুনিক চিত্রকলায় অনুভুতি আছে। বিশ্বাসের চেয়ে এখানে বিজ্ঞান প্রযুক্তির অবস্থান অনেক দৃঢ়।
আধুনিক শিল্পের ধরণঃ
আধুনিক চিত্রশিল্পের চরিত্রঃ
যুগ যুগ ধরে চলমান শিল্পকলা, স্থাপত্য, সাহিত্য দর্শন, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং এমনকি মানুষের দৈনন্দিন কর্মকান্ড পর্যন্ত শিল্পায়নের ধাক্কায় এগিয়ে যাওয়া নয়া অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে মানানসই নয়। এগুলোকে বদলে ফেলতে হবে। আধুনিকতার ধারনাটি প্রকৃতপক্ষে শিল্প-সাহিত্যের জগৎকেই নাড়া দিয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই পরিবর্তন যেহেতু ইউরোপেই সূচিত হয়েছিল, তাই আধুনিকতার এই ধারনাটির সঙ্গে ইউরোপের যোগসূত্র অবিচ্ছেদ্য।
The post অনূভূতির প্রবণতায় শিল্পের আধুনিকতা appeared first on Art Criticism.
]]>The post বন্ধু, বলিনি ঝুট, এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট। appeared first on Art Criticism.
]]>The post বন্ধু, বলিনি ঝুট, এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট। appeared first on Art Criticism.
]]>