সৃষ্টি চিন্তার একাডেমিক প্রকাশ এবং ভাবনা প্রসূত দৃশ্য শিল্প নির্মাণের ধারায় ধানমন্ডির শফিউদ্দিন শিল্পালয়ে ‘তৃতীয় পর্ব” শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছে। এখানে একাডেমিক চিন্তাসূত্রের সাথে নীরিক্ষাধর্মী দৃশ্যজ্ঞানের সংযোগ ঘটেছে। একটি সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে ‘তৃতীয় পর্ব’ কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রদর্শনীতে তরুণ শিল্পীদের মধ্যে সামাজিক দায় পূরণের অঙ্গীকার বিশেষভাবে লক্ষনীয়। এই আয়োজনে অতিথি শিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন মনিরুল ইসলাম, হামিদুজ্জামান খান, আদুল মান্নান, রশীদ আমিন সহ সুপরিচিত ১০ জন শিল্পী। সবগুলো চিত্রকর্মের মধ্যেই প্রকৃতিগত ধারণার সাথে নগরজীবনের ধারণাসম্পৃক্ত ভাববিন্যাসের মাত্রায়ন ঘটেছে ; মাধ্যমগত বিবেচনাবোধ খুবই প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে। তরুণ শিল্পীদের একাডেমিক সৃষ্টিপদ্ধতির সাথে প্রবীণ শিল্পীদের শিল্পধারার সংযোগ এই আয়োজনকে হৃদ্ধ করেছে। এই আয়োজনে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি পর্ব ছিলো যেখানে প্রয়াত শিল্পী হামিদুজ্জামান খানের পরিবারকে “লাইফ-টাইম অনারেবল মেনশন এওয়ার্ড ২০২৫” প্রদান করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী তরুণ শিল্পীরা ঢাকা আর্ট কলেজ এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ‘তৃতীয় পর্ব” শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ডট আর্টিস্ট গ্রুপের শিল্পীরা আয়োজন করেছে। তাদের পথচলা শুরু হয়েছে সাংগঠনিক কাঠামোর বিকাশের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে শিল্প সংগঠনের কর্মকাণ্ড প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম; সেক্ষেত্রে তাদের এই কর্মকাণ্ড খুবই প্রশংসার দাবি রাখে। “ডট আর্টিস্ট গ্রুপ ২০১৮ সালে অঁলিয়াস ফ্রাসেজ এর জুম গ্যালারিতে প্রথম দলীয় প্রদর্শনী আয়োজন করেছিলো এবং এই আয়োজনের মাধমে শিল্পাঙ্গনে তারা পরিচিতি লাভ করে। প্রদর্শনীর প্রতিটি শিল্প কর্মে নান্দনিকতা, প্রাকৃতীগত সৌন্দর্যভাবনা, আবেগময় রূপের বিন্যাস, নাগরিক জনজীবন, সুফিজম, ক্যালিগ্রাফিসহ বিভিন্ন বিষয় ফুটে উঠেছে। প্রদর্শনীর শিল্পীরা জলরং, তেলরং, অ্যাক্রিলিক রং ও মিশ্র মাধ্যমে কাজ করেছেন। এই প্রদর্শনীতে ২২ জন শিল্পীর মোট ৪০ টি কাজ প্রদর্শিত হয়েছে। পাঁচ দিন ব্যাপী এই প্রদর্শনী শিল্পাঙ্গনে তরুণদের সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
শিল্পী আরিফুর রহমান তপু তার ইমপ্রেশন অব নেচার চিত্রকর্মটি নগরজীবনকে কেন্দ্র করে এঁকেছেন। জনবহুল শহুওে সংস্কৃতির ধারণাকে এখানে দৃশ্যমান করা হয়েছে। চিত্রকর্মটি জলরং মাধ্যমে শিল্পী করেছেন এবং তার তুলির আঁচরে নাগরিক জীবনে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস করেছেন। কর্মব্যস্ত নগর জীবন ও আলো ছায়ারর গভীর প্রতিফলন শিল্পীর এই শিল্পকর্মে চিত্রিত করা হয়েছে।

শিল্পী শুভ্র তালুকদার তার “অস্তিত্বের প্রতিধ্বনি” শীর্ষক চিত্রকর্মে তিনি গ্রামীণ জীবনকে উপলব্ধিতে এনেছেন এবং গ্রাম্য ধারার জীবন ব্যবস্থাপনার আঙ্গিক বিশ্লেষনে কাজ করেছেন। চিত্রকর্মটির মূল উপজীব্য বিষয় হলো গ্রামীণ জীবন, কৃষক, কৃষিকাজ, লাঙ্গল, কৃষকের জীবনচক্র, হাল চাষের প্রানী। এ কাজটি করা হয়েছে অ্যাক্রিলিক মাধ্যমে এবং নানা রকম টেক্সচার ও লক্ষ্য করা যায় চিএটিতে।

অন্যদিকে শিল্পী নাফিসা ইসলাম অনন্যা ক্যালিগ্রাফি ২ চিত্রকর্মে উজ্জল রংয়ের ব্যবহার করেছেন। এখানে টেক্সচারের বিন্যস্ত্যতা রংয়ের ধারায় এক নির্মোহ আবহ তৈরি করেছেন। শিল্পী সাদিয়া সুলতানা বনি “Giggling Root” চিত্রকর্মটি কাগজে জলরং এর মাধ্যমে এঁকেছেন । এখানে শিল্পী মৌলিক রংকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বিভিন্ন রঙের ভারি প্রলেপ ও বিভিন্ন টেক্সচার তৈরি করেছেন যা খুবই প্রাসঙ্গিক হয়েছে বিষয়ভিত্তিক চিন্তার সাথে। এই চিত্রকর্মে সৃজনচিন্তার আলোকপ্রভা তৈরি হয়েছে যেখানে প্রকৃতিগত ভাবনার অনুপ্রবেশ দারুণভাবে কাজ করেছে। এই প্রদর্শনীতে চিন্তার খোরাক রয়েছে, ভাবনা বিন্যাসের সংযোগ যেমন যেমন ঘটেছে ঠিক একইভাবে রং প্রয়োগে একাডেমিক ধারার বিকাশও লক্ষনীয়। নবীন এবং প্রবীনদের দৃশ্যশিল্প ধারণের পদ্ধতিগত প্রয়োগ সাধনের লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে যা দ্বারা শিল্প শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে বলে ধারণা করতে পারি। ভাবনার সাথে প্রায়োগিক জ্ঞানের মিশেল বন্ধন প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর ধারণা প্রবাহকে ব্যপৃত করেছে যা সামগ্রিক চিন্তার আলোকে শিল্পীদের যাত্রাপর্বকে আলোড়িত করেছে।